নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কারাখানায় আগুন লেগে ৫২ জন নিহতের ঘটনায় চেয়ারম্যান আবুল হাশেম ও তার ছেলে এমডি সজীব এবং সিইওসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ওই কারখানা পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অবহেলাজনিত ভুল হলেও দায়ী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কারখানার নিচতলায় থাকা প্যাকেজিং মেশিনের স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। এরপর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কাগজের মাধ্যমে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। উপরের ফ্লোরগুলোতে অতিরিক্ত মাত্রায় দাহ্য পদার্থ প্লাস্টিক ঘি জুসের প্যাকেটসহ অন্যান্য কাঁচামাল থাকায় আগুন বাতাসের সঙ্গে ছড়াতে থাকে। ফলে ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকে চেষ্টা করলেও কিছুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ শনিবারও কারখানাটির ভেতরে ধোঁয়া উড়তে দেখো গেছে।
নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আবির হোসেন শনিবার (১০ জুলাই) সকালে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এখনও ওই ভবনে কাজ করছে। আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে কারখানাটি তাদের বুঝিয়ে দেবে। ভবনটি বুঝে পাওয়ার পর মামলা করার আগে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করবেন।
এর আগে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫২ জনের পরিচয় জানতে ১ মাস সময় লাগতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডিএনএ পরীক্ষক মোহাম্মদ মাসুদ রাব্বী সবুজ এমন তথ্যই জানিয়েছেন। শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান।
এদিকে, ট্রাজেডি’র দ্বিতীয় দিন চলছে আজ। শ্রমিকদের মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়েছে যে- তাদের চেনার উপায় নেই। অধিকাংশের শরীরে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া মাংস আর হাড় ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। চেনার উপায় নেই, কোনটি কার লাশ! যাকে যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, সে অবস্থাতেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে কলেজের মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে স্বজনরা নিখোঁজ শ্রমিকদের মরদেহ খোঁজে মর্গের সামনে, এমনকি ট্রাজেডিস্থলে অশ্রুসিক্ত নয়নে বুকে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীর পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্তের উপায় না পেয়ে স্বজনের ডিএনএ টেস্ট করার পথে হাঁটছে ফরেনসিক বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনরা বলছেন, প্রিয়জনের লাশের একটি টুকরাই সান্ত্বনা এনে দিতে পারে তাদের মনে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কারখানায় ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত আগুনে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখছে একাধিক সংস্থা। এরই মধ্যে কারখানার ভেতরকার কলাপসিবল গেট বন্ধ, জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি না থাকা, কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা এবং প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকাকে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে পুড়ে কয়লা হওয়ায় ৫২ মরদেহ চেনার সুযোগ নেই। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া শনাক্ত করা যাবে না মৃতদেহ। সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহতদের ২৫ হাজার ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী।
Leave a Reply