সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
নরসিংদীতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা
Update : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের হাসিমপুর-কলাবাড়িয়া এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদরাসার দশ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুনায়েদ আহমদ। তিনি উপজেলার চান্দেকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

ঘটনার দুইদিন পর আজ রবিবার দুপুরে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই মাস পূর্বে রায়পুরা পৌর এলাকার হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ও তার ছোট ভাইকে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মাদরাসায় (আবাসিক) থেকে পড়াশোনা করছিল সে। গত ২৪ এপ্রিল রাত ২টায় ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করেন মাদরাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ। ঘটনার পর সকালে অসুস্থতা বোধ করলেও ওই ছাত্রী তার খালার বাড়ির রায়পুরা পৌর শহরের মৌলভীবাজারের বাসায় চলে যায়। সেখানে তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত ওই ছাত্রী তার খালাকে জানায়। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রীর মা ও বাবাকে ফোনে জানান তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে নখের দাগের চিহ্ন রয়েছে। পরে ওই ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রীকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নরসিংদীতে রেফার্ড করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা জানাজানি হলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীদের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদরাসা একটি সাঁটার ভাঙচুর করে এবং ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবি জানান। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলে।
অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ সর্ম্পকে জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার প্রতিষ্ঠা বাবুল ভূঁইয়ার ভায়রা ভাই। ঘটনার পর জুনায়েদকে প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তিনি। পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তি ও বিরোধীতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি। ঘটনার পর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়া, মুহতামিম জুনায়েদ দুজনই এখন আত্মগোপনে আছেন। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পর মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে। গেইটের ঝুলছে তালা। গতরাতে উত্তেজিত জনতা মাদরাসার একটি সাঁটারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান জানান, ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনায় বসা সালিশে ঝামেলা হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়। আজ ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ফেসবুকে আমরা