1. mostafa0192@gmail.com : বার্তা বিভাগ :
  2. arsawponbd6@gmail.com : আরিফুর রহমান স্বপন : আরিফুর রহমান স্বপন
  3. azizulpress2020@gmail.com : এম আজিজুল ইসলাম : এম আজিজুল ইসলাম
  4. imranhpress@gmail.com : মো: ইমরান হোসেন : মো: ইমরান হোসেন
  5. jahid3512@gmail.com : মোঃ জাহিদ হাসান : মোঃ জাহিদ হাসান
  6. khanithost@gmail.com : Md Mostafa Khan : Md Mostafa Khan
  7. arswaponbd6@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
নরসিংদীতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী এক গৃহবধূ - Jonaki TV
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী এক গৃহবধূ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীতে ভুল চিকিৎসায় সখিনা নামে এক গৃহবধূ আজ মৃত্যু পথযাত্রী সম্প্রতি নরসিংদী শহরের জেলখানা মোড় হলি লাইফ হাসপাতলে তার অস্ত্রোপাচারকালে  ভুল চিকিৎসা দেওয়ায় বর্তমানে মহিলা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূর স্বামী সজল মিয়।  ডাক্তার বলছে তার জীবন মরণ বর্তমানে সম্পুর্ণ সৃষ্টিকর্তার হাতে। আর এই ভুল চিকিৎসার ফলে ওই গৃহবধূর স্বামী একটি বেসরকারি স্কুলের স্বল্প বেতনের দপ্তরিকে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত তিন লক্ষাধিক টাকা। গৃহবধূ সাকিনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায় আব্দুল কাদির মোল্লা ইংলিশ মিডিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দপ্তরি সজল মিয়ার স্ত্রী সাকিনা বেগমের পিত্তথলিতে সম্প্রতি পাথর ধরা পড়ে। পিত্তথলি থেকে ওই পাথর অপসারণ করতে স্বামী সজল মিয়া ভালো ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ওই পাথর অপসারণ করতে তার পরিচিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক রিপন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে।

সজল মিয়া জানান, রিপন তাদের পূর্ব পরিচিত এর আগেও তার এই হাসপাতলে সজলের বাবা, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ও স্ত্রীর চিকিৎসা করা হয়। সজলের সবসময় আসা যাওয়ার ফলে রিপনের সাথে তার একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সজল সহ তার পরিবারের লোকজন তাকে অগাধ বিশ্বাস করে। স্ত্রী সাকিনার বিষয়টি রিপনের সাথে আলাপ করলে সে সজল স্ত্রীকে তার পরিচালনাধীন নরসিংদী শহরের জেলখানার মোড়ে অবস্থিত হলি লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। রিপনের পরামর্শ অনুযায়ী সজল তার স্ত্রী সাকিনা বেগমকে সেখানে ভর্তি করায় যথারীতি সেখানে ডা. আসাদুজ্জামানের অধিনে তার অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে লেপিরোস্কপি করা হয়। কিন্তু ডাক্তার লেপিরোস্কপি করার সময় যে স্থানে ক্লিপ করে তার  মুখ বড় কেটে ফেলায় কেটে ফেলা স্থানে ক্লিপ  করলে  তা ঠিকমত বন্ধ হয়নি এবং অন্য একটি স্থানে ছিদ্র করে ফেলে যা বর্তমানে সাকিনা যে ডাক্তারের  চিকিৎসাধীন রয়েছে তার কাছ থেকে জানতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি জানান হোলি লাইফ হাসপাতালের লেপিরোস্কপি করার সময় তিনদিন পর সাকিনা কে ছুটি দেয় কর্তব্যরত ডাক্তার যথারীতি তাকে বাড়ি নিয়ে যায় তারা আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সন্ধ্যায় সাকিনার পেটে প্রচন্ড ব্যথা হতে থাকে বিষয়টি রিপনকে জানালে তাকে পুনরায় হসপিটালে নিয়ে আসার কথা বলে। হাসপাতালে আনার পর বিভিন্নভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও তার চিকিৎসা চলতে থাকে এভাবে কেটে যায় কয়েকদিন। এদিকে শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে ওঠে সজল তার স্ত্রীর বিষয়ে রিপনে কাছে জানতে চাইলেন সঠিকভাবে তেমন কিছুই না বলে শুধু বলে দেখা যাক কি হয়। সখিনার অবস্থা যখন সংকটাপন্ন তখন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রেফার্ড  করে দেয় দায়িত্বরত ডাক্তার।

এ অবস্থায় তাকে ঢাকা ইবনে সিনা  হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল তিনি জানান তার পেটের মধ্যে পাকস্থলী থেকে বিভিন্ন ধরনের ময়লা ঢুকে পড়েছে, সেগুলো অপসারণ করতে খুব দ্রুত অপারেশন করতে হবে। আর অপারেশনের খরচ ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় সজল ও তার আত্মীয়-স্বজন ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরে অপারেশনের ব্যবস্থা করতে বলেন। যথারীতি অপারেশন হয় অপারেশনের পর ডাক্তার তাদেরকে জানায় তিনি তার সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন তবে পেটের মধ্যে যে ছিদ্রটি হয়েছিল তা তিনি পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করতে পারেননি তাই এক্ষেত্রে একটু বিপদের ভয় থাকতে পারে এবং যে কোন সময়খারাপ কোন কিছু হয়ে যেতে পারে।

সজল বলেন, আমি গরিব মানুষ নরসিংদী ও ঢাকা মিলিয়ে আমার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। তারপর আমার স্ত্রীর বাঁচা মরার কোন নিশ্চয়তা নেই।

তার স্ত্রীর এই অবস্থার জন্য সজল হাসপাতালের পরিচালক রিপন কে দায়ী করে বলেন, তারা আমার স্ত্রীর জান নিয়ে খেলা করেছে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য অনেক বেশি। টাকার জন্যই আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে গেলেও তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে তাকে আটকে রাখে। আমি রিপনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি আমার মতো আর কারো যেন এরকম ক্ষতি না হয়।

সুজন মিয়ার এক নিকট আত্মীয় বলেন, রোগীদের সাথে বাংলাদেশের কোথাও যেন সাখিনার মতন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য সরকারের কাছে হলি লাইফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে হলি লাইফ হাসপাতালের পরিচালক রিপনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এখানে আমার তো কোন দোষ নেই, দোষ হতে পারে ডাক্তারের। আপনারা ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি অভিযোগ পাই তবে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 Jonaki Media and Communication Limited
Design By Khan IT Host