আরিফুর রহমান স্বপন, কুমিল্লা ও কোহিনুর প্রীতি, লাকসাম প্রতিনিধি:
লাকসামে অটোরিকশা চালক মোরশেদকে নির্মমভাবে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল আসামীকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে লাকসাম থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামী কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও পশ্চিম পাড়ার মিজি বাড়ির মৃত আনিছ মিয়ার ছেলে মো. হাবিব ওরফে সবুজ। ২৯ মার্চ (রোববার) ওই আসামীকে আদালতে হাজির করা হলে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২২ মার্চ (রোববার) দিবাগত রাতে লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শ্রীয়াং মিয়াজী বাড়ি জামে মসজিদের শৌচাগার থেকে মোরশেদ আলম (২৪) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ উদ্ধারকৃত লাশের সুরতহাল করে পরদিন ২৩ মার্চ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
নিহত মোরশেদ আলম কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের ডাবুরিয়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক।
পুলিশ আরও জানান, মোরশেদকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় মো. হাবিব ওরফে সবুজ। এ ঘটনায় ২৮ মার্চ রাতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ এর নেতৃত্বে ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মংছাই মার্মার সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল ঢাকার আশুলিয়া থানার মধ্য ডেনদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী মো. হাবিব ওরফে সবুজকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরদিন ২৯ মার্চ (রোববার) কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ জানান, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া আটোরিকশা উদ্ধারসহ মূল আসামীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


