আরিফুর রহমান স্বপন, কুমিল্লা:
কুমিল্লার লাকসামে নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদার বাড়ি জাদুঘর ও নবাব ফয়েজুন্নেছার ওয়াকফ সম্পত্তি দখল চেষ্টার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও এলাকায় নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জাদুঘরের পাশে টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে পৌরসভার অর্থায়নে জাদুঘরের দোতলায় অবস্থানরত নবাব পরিবারের বংশধরদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় দখলদাররা। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নির্মাণাধীন অবৈধ টিনের বেড়া অপসারণ ও ঝুলানো তালা ভেঙে দেয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন এই ওয়াকফ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল একদল ভূমিদস্যু। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন সবুজ নামের এক ব্যক্তিকে মোতাওয়াল্লী সাজিয়ে ত্রুটিপূর্ণ রেকর্ড তৈরির মাধ্যমে নবাব ফয়েজুন্নেছার ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিকভাবে সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায় ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ করে গেছেন নবাব ফয়েজুন্নেসা চৌধুরানী। এর মধ্যে প্রায় ২৯০ একর জমি ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট অংশও দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে। নবাব ফয়েজুন্নেছার ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজন ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় লোকজন নিজেরাই ওই অবৈধ দখল উচ্ছেদে কাজ করেছেন। ইউএনও বলেন, নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদার বাড়ির ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম মহোদয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দখল চেষ্টা করা হলে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাদুঘরের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক এই সম্পত্তি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কারও কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকলে তা আইনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে সুরাহা করা উচিত, দখল চেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


