যারা সমাজের অবহেলিত, নির্যাতিত-নিপিড়িত মানুষের কথা বলে, যারা সরকারী/বেসরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে থেকে নি:স্বার্থভাবে কাজ করে, যারা জনপ্রতিনিধিদের পাশে থেকে নির্বাচনী প্রচারনা থেকে শুরু করে সকল ধরনের সভা, সমাবেশে কাজে লাগে, যারা পাশে না থাকলে সভা/সমাবেশ নিস্প্রাণ মনে হয়, যাদের সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা-মামলার শিকার হতে হয়, যারা দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে ডাক্তার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের চরম ঝুকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, তারা হলেন সংবাদকর্মী। যাদেরকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ/জাতির বিবেক। সেই জাতির বিবেক আজ সবচেয়ে অবহেলিত। করোনা ভাইরাস প্রমান করলো সাংবাদিকরাই জনসাধারণ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রকৃত বন্ধু হলেও এসব সাংবাদিকদের দেখার কেউ নেই।
প্রশাসনের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাদের সাথে চাকুরীর সুবাদে আমাদের পরিচয়। আমাদেরকে নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা না-ই থাকলো। কিন্তু তারাও তো কোন খোজ নিচ্ছে না। যারা নির্বাচনী মাঠে নামার আগে এলাকায় এসে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপর ভর করে চা চক্র বা মত বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রার্থীতা জানান দেন। জানি নির্বাচন পেরিয়ে গেলে আগামী ৪/৫ বছর এসব সংবাদকর্মীদের খোজ নেওয়ার আর কোন প্রয়োজন নেই তাদের। জিনারা জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন, দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে তারাই বা কতটুকু খোজ নিচ্ছেন সংবাদকর্মীদের। উপজেলার সর্বোচ্চ অভিভাবক স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়। তিনিও অদ্যাবদি আমাদেরকে নিয়ে কোন কিছু ভেবেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি চাইলেই স্থানীয় সাংবাদিকদের করোনা ঝুকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। করোনা প্রতিরোধক কোন পোষাক বা সরঞ্জাম না থাকায় রায়পুরা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা চরম ঝুকি নিয়ে মাঠে ময়দানে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা শুধু সাংবাদিক নয়। দিন শেষে তারা কারো স্বামী, কারো পিতা, কারো সন্তান, কারো ভাই। প্রয়োজন যেখানে একান্ত- সংকোচ সেখানে অর্থহীন। সাংবাদিকদেরও পরিবার-পরিজন আছে। আছে বেঁচে থাকার তাগিদ।
—————————–
সাংবাদিক মোঃ মোস্তফা খান
রায়পুরা, নরসিংদী


