সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
করোনায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ খুঁজে পেয়েছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
প্রতিকি ছবি

ডেস্ক রির্পোট

করোনাভাইরাসে জীবন রক্ষাকারী প্রথম ওষুধ পাওয়া গেছে। ডেক্সামেথাসোন নামের স্টেরয়েড এই ওষুধটি করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে এবং এটি স্বস্তা ও সহজলভ্য বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনার চিকিৎসায় এই ওষুধটি বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় একটি বড় ধরনের অগ্রগতি বলেও মনে করছেন তারা। খবর বিবিসির।

দামে সস্তা হওয়ায় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এই ওষুধটি বেশ কাজে আসতে পারে এমনটি ধারনা করা হচ্ছে।

বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই স্বল্প মাত্রার স্টেরয়েড চিকিৎসা একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার।

গবেষকরা অনুমান করছেন যে, ব্রিটেনে যখন করোনা মহামারি শুরু হয়েছে তার প্রথম থেকেই যদি এই ওষুধ ব্যবহার করা সম্ভব হতো তাহলে পাঁচ হাজার পর্যন্ত জীবন বাঁচানো যেত। কারণ এই ওষুধ সস্তা।

তারা বলছেন, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই ওষুধ বিশালভাবে কাজে লাগতে পারে। এবং যেসব দেশ রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এটা তাদের জন্য বিশাল সুখবর।

এই ওষুধ ব্যবহারের পর করোনায় আক্রান্ত ২০ জন রোগীর মধ্যে ১৯ জনই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়া সুস্থ হয়েছেন। আর ‍যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যেও অনেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজনের অক্সিজেন বা মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয়ে থাকতে পারে। এসব রোগীর করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন এবং তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ কাজ করতে দেখা গেছে।

অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ফোলা কমাতে ইতোমধ্যেই এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া করোনার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার যে ক্ষতিসাধিত হয়েছে সেটা থামাতেও এটা কাজ করে বলে দেখা গেছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম এই গবেষণা চালিয়েছে। তারা হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রায় দুই হাজার রোগীকে ডেক্সামেথাসোন দিয়েছে। এরপর এই ওষুধ দেয়া হয়নি এমন চার হাজারের বেশি মানুষের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে তাদের অবস্থা তুলনা করেছেন গবেষকরা।

ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪০ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে কমিয়ে এনেছে এই ওষুধ। যারা অক্সিজেন নিচ্ছিলেন এমন রোগীর ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক পিটার হরবি বলেন, করোনায় মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একমাত্র এই ওষুধ কার্যকারিতা দেখিয়েছে এবং এটা মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে। এটা একটা বড় সাফল্য।

এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক মার্টিন ল্যান্ড্রে বলেছেন, এই গবেষণায় আমরা দেখেছি যে ভেন্টিলেটরে থাকা প্রতি আটজন রোগীর মধ্যে একজনকে বাঁচানো সম্ভব। আর অক্সিজেনের সাহায্যে চিকিৎসা করা হচ্ছে এমন ২০-২৫ জন রোগীর মধ্যে একজনকে বাঁচানো সম্ভব এই ওষুধের সাহায্যে।

তিনি বলেন, একটা স্পষ্ট সুবিধা দেখিয়েছে এই ওষুধ। ডেক্সামেথাসোন দিয়ে ১০ দিন চিকিৎসা চালাতে হয় এবং প্রতি রোগীর পেছনে খরচ হয় মাত্র ৫ পাউন্ড বা প্রায় ৫৩৫ টাকা। এই ওষুধ বিশ্বের সব দেশেই পাওয়া যায়।

অধ্যাপক ল্যান্ড্রে বলেন, যখন প্রয়োজন সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের দেরি না করেই এই ওষুধ দেয়া উচিত; কিন্তু মানুষজন এটা কিনে বাসায় নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।

যাদের ক্ষেত্রে করোনার মৃদু লক্ষণ আছে, অর্থাৎ যাদের শ্বাসজনিত কোনও সমস্যা হয়নি এই রোগের কারণে, তাদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসোন খুব একটা কাজ করে না।

 

জোনাকী টেলিভিশন/এসএইচআর/১৬-০৬-২০ইং

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ফেসবুকে আমরা