
নরসিংদীর রায়পুরায় সাম্প্রতিক আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত মামুন মিয়ার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বুকল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল আমিন ভূঁইয়া রুহেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে তারা প্রথমে নিলক্ষা ইউনিয়নের ছক্কার মোড়ে সংঘর্ষকালে ভাঙচুরের শিকার বিএনপি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি দেখেন। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিহত মামুন মিয়ার বাড়িতে যান এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় নিহত মামুনের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিএনপি প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন বুকল নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয় আতশআলী বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির নবনির্মিত কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।
সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রায়পুরার জনগণ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আছে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে কেউ আর প্রাণ হারাবে না।”
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন মেম্বার ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে আব্দুল আউয়ালের ছেলে মামুন মিয়া (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্ধ চলছিল। এরই জেরে ওইদিনের সংঘর্ষ ঘটে, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
নিহত মামুনের পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।


