সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম :
দেশে আরও ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩০২৭
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রির্পোট

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে নিত্যদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক; ৫৫ জন মৃত্যূবরণ করেছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ১৫১ জনে। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৩ জন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯১টি। পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৭৩টি। এতে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৭ জন । গত ২ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরই এখন বাংলাদেশ। উৎসস্থল চীনকে ছাড়িয়েছে এ তিনটি দেশই। দেশে ইতোমধ্যে শনাক্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০ জনের করোনা পরীক্ষা করে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনে। বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডাকে পেছনে ফেলে ১৭তম। আর এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। এর আগে রয়েছে ভারত, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আবারও ৫৫ জন মারা গেছেন। এর আগে গত ৫ জুলাইও ৫৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এটি একদিনে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। গত ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ১৫১ জন। নতুন মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪৬ জন ও নারী ৯ জন।

দেশে করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিনই সুস্থ হয়ে উঠছেন বিপুল মানুষ।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতাল মিলিয়ে নতুন সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৩ জন। এ নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ১০২ জন সুস্থ হয়েছেন।

ব্রিফিংয়ের করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনা মোকাবিলায় তরল খাবার, কুসুম গরম পানি ও আদা চা পান করতে হবে। সম্ভব হলে মৌসুমী ফল খাওয়া ও ফুসফুসের ব্যায়াম করা। এ সময় ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। কারণ, এটি ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের করোনা আক্রান্ত মায়ের দুধপানে শিশুর করোনা আক্রান্ত হওয়ার কোনো তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পায়নি। অর্থাৎ, শিশুকে দুধপান করানো যাবে। তবে, এই সময়ে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছিল আইইডিসিআর। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার।

ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি। ৭ম দফায় বাড়ানো ছুটি চলে ৩০ মে পর্যন্ত। ৩১ মে থেকে সাধারণ ছুটি নেই। এখন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ভিত্তিক লকডাউন চলছে। তাই অফিস আদালতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সরঞ্জামাদি রাখা ও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

জোনাকী টেলিভিশন/এসএইচআর/৭ জুলাই ২০২০ইং

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ফেসবুকে আমরা